রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:০৭ অপরাহ্ন

বেপরোয়া কিশোর গ্যাং : তিন বছরে খুন অর্ধ শতাধিক

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫৫ শেয়ার
প্রকাশিত : সোমবার, ৩১ মে, ২০২১

কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না কিশোর গ্যাং নামে অপরাধী চক্র। নানা অপরাধের পাশাপাশি তুচ্ছ ঘটনায় খুন করতেও দ্বিধাবোধ করছে না এই বেপরোয়া গোষ্ঠী। গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রতিবেদনে কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ ও প্রতিকারের বিষয়ে ১২ দফা সুপারিশ করা হয়েছে। শীঘ্রই সারাদেশে কিশোর গ্যাং সদস্য গ্রেফতারের জন্য বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ সদর দফতর ও গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, দেশব্যাপী অপরাধ জগতে এখন ভয়ঙ্কর আতঙ্কের নাম কিশোর গ্যাং। দেশের ৬৪ জেলা, উপজেলা ও মহানগর এলাকায় অন্তত ৫ শতাধিক কিশোর গ্যাং সক্রিয়। কেবলমাত্র রাজধানী ঢাকাতেই সক্রিয় ৫০ কিশোর গ্যাং। সারাদেশে এই গ্যাংয়ের সদস্য সংখ্যা ৫ থেকে ৬ হাজার হবে। এর মধ্যে রাজধানীতেই সহ¯্রাধিক। গত তিন বছরে সারাদেশে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে খুন হয়েছে অর্ধশতাধিক মানুষ। এসব খুনের ঘটনায় আসামি করা হয়েছে পাঁচ শতাধিক কিশোর গ্যাং সদস্যকে। গত তিন বছরে কিশোর গ্যাংয়ের দেড় শতাধিক সদস্যকে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সাজাপ্রাপ্ত ও গ্রেফতার হওয়া গ্যাংয়ের সদস্যদের রাখা হয়েছে তিনটি সংশোধনাগারে।
ছোট ছোট অপরাধ থেকে শুরু করে হত্যাকা-, ইভটিজিং, ধর্ষণ, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদকাসক্তি, মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র সম্পর্কিত গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে এই গ্যাং। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে এর সদস্যদের অপরাধমূলক কর্মকা- বেপরোয়াভাবে বেড়ে যাওয়ার ঘটনাটি আশঙ্কাজনক। হুমকির মুখে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। গত চব্বিশ ঘণ্টায় ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে খুন হয়েছে দুজন। এক ছেলের সিগারেট খাওয়া নিয়ে ঝগড়ার জেরে রাজধানীর কদমতলীর শনির আখড়ায় গ্যাং সদস্যের ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছে আরাফাত ইয়াসিন (১৮) নামের এক তরুণ। বৃহস্পতিবার রাতে শনির আখড়া আর এস শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে।এস শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন তাকে। কিশোর গ্যাংয়ের প্রিন্সদের সঙ্গে থাকা এক ছেলেকে সিগারেট খাওয়া নিয়ে আরাফাত চড় মেরেছে। এর জেরেই প্রিন্স, শুভসহ ১৫ থেকে ২০ জনের সদস্যরা বৃহস্পতিবার রাতে দোকান থেকে ফেরার সময় এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে খুন করেছে আরাফাত ইয়াসিনকে। একইদিনে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আরও একজন খুনকে করেছে এই গ্যাং। আরেক গ্যাংয়ের সদস্যরা কয়েকদিন আগে রাজধানীর উত্তরায় এলোপাতাড়ি কোপে আরেফিন শাকিল (২৩) নামে এক তরুণকে খুন করে। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্নস্থানে গ্যাংয়ের সদস্যের হাতে খুন, লাঞ্ছিত, নিগৃহীত, আহতসহ অপ্রীতিকর ঘটনায় মানুষজন খুবই উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কগ্রস্ত।

পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তার, সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব, প্রেমের বিরোধ, মাদকসহ নানা অপরাধে কিশোররা খুনাখুনীতে জড়িয়ে পড়ছে। মাদক ব্যবসা ও দখলবাজিতেও তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি এই গ্যাংয়ের হাতে খুনের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করে স্থানীয় ‘বড় ভাই’রা। ঢাকায় আন্ডারওয়ার্ল্ডের খুনাখুনীতে কিশোর ও তরুণদের ব্যবহার করার ঘটনাও ঘটেছে। ‘হিরোইজম’ প্রকাশ করতেও পাড়া-মহল্লায় কিশোর গ্যাং গড়ে উঠছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রোধে শিগগিরই বড় ধরনের অভিযান চালানো হবে।

গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সারাদেশের ৬৪ জেলা, থানা, বিভাগ ও মেট্রোপলিটন এলাকায় গড়ে ওঠা কিশোর গ্যাংয়ের দাপটে আতঙ্কে অতিষ্ঠ গ্রাম-গঞ্জ, পাড়া-মহল্লা, হাঠ-বাজার, শহর-বন্দর সর্বত্র। কিশোর গ্যাংয়ের নাম শুনলেই মানুষ ভয়ে আঁতকে ওঠে। রাজধানী ঢাকাতে যেসব কিশোর গ্যাংয়ের নাম রয়েছে তার মধ্যে এক সময় পাওয়ার বয়েজ, ডিসকো বয়েজ, বিগ বস, নাইন স্টার ও নাইন এমএম বয়েজ, এনএনএস, এফএইচবি, জিইউ, ক্যাকরা, ডিএইচবি, ব্যাক রোজ, রনো, কেনাইন, ফিফটিন গ্যাং, পোঁটলা বাবু, সুজন ফাইটার, আলতাফ জিরো, ক্যাসল বয়েজ, ভাইপার, তুফান, থ্রি গাল গ্যাং, লাগবি নাকি, মাঈনুদ্দিন গ্রুপ, বিহারি রাসেল গ্যাং, বিচ্চু বাহিনী, পিচ্চি বাবু, সাইফুলের গ্যাং, সাব্বির গ্যাং, বাবু রাজন গ্যাং, রিপন গ্যাং, মোবারক গ্যাং, নয়ন গ্যাং, তালাচাবি গ্যাং, নাইন এম এম, একে ৪৭ ও ফাইভ স্টার গ্রুপ, স্টার বন্ড গ্রুপ, মোল্লা রাব্বির গ্রুপ, গ্রুপ টোয়েন্টিফাইভ, লাড়া দে, লেভেল হাই, দেখে ল-চিনে ল, কোপায়ইয়া দে, শাহীন-রিপন গ্যাং, নাজিম উদ্দিন গ্যাং, শান্ত গ্যাং, মেহেদী গ্যাং, সোলেমান গ্যাং, রাসেল ও উজ্জ্বল গ্যাং, বাংলা ও লাভলেট গ্যাং, জুম্মন গ্যাং, চান-জাদু, ডেভিল কিং ফুল পার্টি, ভলিয়ম টু, ভা-ারি গ্যাং, টিকটক গ্যাং, পোঁটলা সিফাত গ্যাং যথেষ্ট সক্রিয় ছিল। কেবলমাত্র রাজধানীতে ৫০টির বেশি কিশোর গ্যাং রয়েছে। প্রতিটি গ্যাংয়ে সদস্য রয়েছে ১৫ থেকে ২০ জন করে। এই গ্যাং উত্তরা, তুরাগ, খিলগাঁও, দক্ষিণখান, টঙ্গী, সূত্রাপুর, ডেমরা, সবুজবাগ, খিলক্ষেত, কোতোয়ালি, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, আগারগাঁও ও হাতিরঝিলে সক্রিয়।

গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারাদেশে কিশোর গ্যাং কালচার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়া থেকে শুরু করে অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণকারীদের ছত্রছায়ায় কিশোর গ্যাং হয়ে উঠেছে বেপরোয়া। দেশের নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে কিশোর গ্যাং সদস্যরা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের অপরাধের ধরনও পাল্টে যাচ্ছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা ও দখলবাজিতেও তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। গত ৩ বছরে এসব ঘটনায় চার শতাধিক কিশোরকে আসামি করা হয়েছে। নানা অপরাধে জড়িয়ে কিশোররা ক্রমেই অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে। অধিকাংশ কিশোর গ্যাং গড়ে ওঠার পেছনে রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীর মদদ পাওয়ার অভিযোগ আছে। ‘হিরোইজম’ প্রকাশ করতেও পাড়া-মহল্লায় কিশোর গ্যাং গড়ে উঠছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়া কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানে এদের হাতে খুনের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করে স্থানীয় ‘বড় ভাই’রা। ঢাকায় আন্ডারওয়ার্ল্ডের খুনাখুনীতে কিশোর ও তরুণদের ব্যবহার করার ঘটনাও ঘটেছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে রাজধানী ঢাকার উত্তরায় আদনান কবির হত্যার পর কিশোর গ্যাংয়ের কর্মকা- ব্যাপক আলোচনায় আসে। ওই সময় রাজধানীসহ সারাদেশে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। এর কিছুদিন পর অভিযানে ঢিলেঢালা ভাব দেখা দেয়। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় খুনাখুনীসহ নানা ধরনের অপরাধ বেড়ে গেছে। কিশোর অপরাধীদের একটা বড় অংশ ধনাঢ্য ও অভিজাত শ্রেণীর ঘর থেকে উঠে এসে রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে পাড়া-মহল্লায় দাপট দেখিয়ে চলে। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভাসমান জীবনযাপন করে একশ্রেণীর কিশোর গ্যাং। রেললাইন ও বস্তি এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকা-ের সঙ্গে তারা জড়িত।বিশেষ করে মাদক, ছিনতাই ও ডাকাতির সঙ্গে তারা জড়িত। কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রোধে শিগগিরই বড় ধরনের অভিযান চালানো হবে। এরপর রাজধানী ঢাকাতে কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে তদন্ত ও অনুসন্ধান শুরু করার পর কেবলমাত্র উত্তরাতেই এক ডজনের বেশি গ্যাংয়ের সন্ধান পায় পুলিশ। গত বছরের সেপ্টেম্বরে সাভারে স্থানীয় গ্যাং সদস্যদের হাতে নিহত হয় স্কুলছাত্রী নীলা রায়। এই হত্যাকান্ডের পেছনে দুই কিশোর-তরুণের হাত থাকার অভিযোগ ওঠে। এরপর গত ৯ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় দুই গ্যাংয়ের সংঘর্ষে নাঈম নামের এক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। গ্যাং কর্মকান্ডের বিরোধিতা করায় গত ১ এপ্রিল একই এলাকায় ৩০ বছর বয়সী শরিফ হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। গত ১০ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় শীতলক্ষ্যায় ডুবে মারা যায় দুই কিশোর। ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কিশোরদের ধাওয়া থেকে বাঁচতে তারা নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিল। গত ২৮ আগস্ট রাজধানীর উত্তরখান এলাকায় কলেজছাত্র মোঃ সোহাগ নিহত হন। জানা গেছে, এক রিক্সাচালককে হেনস্থা করার প্রতিবাদ করায় তাকে হত্যা করা হয়।

বরগুনার কুখ্যাত নয়ন বন্ড ০০৭ গ্রুপ গত বছর দিনেরবেলায় রাস্তায় জনসম্মুখে রিফাত শরিফকে কুপিয়ে হত্যা করে। এটি তরুণ গ্যাং সংস্কৃতির একটি নিকৃষ্ট উদাহরণ। এ হত্যার জন্য ১১ কিশোরকে কারাদন্ড দিয়ে বরগুনার আদালত পর্যালোচনায় বলে যে সারাদেশে কিশোর অপরাধ বেড়ে যাচ্ছে। গডফাদাররা এই তরুণ-কিশোরদের ব্যবহার করছে। আদালতের ভাষ্য মতে, এই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি না দেয়া হলে অন্যরা অনুপ্রাণিত হবে। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে দেলোয়ার বাহিনী নামে তরুণ গ্যাংয়ের হাতে একজন গণধর্ষণের শিকারের সংবাদটি সারাদেশে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করে। শুধুমাত্র বেগমগঞ্জেই অন্তত দুই ডজন গ্যাং রয়েছে বলে পুলিশের তথ্যে উল্লেখ আছে। কয়েক মাস আগে, টিকটক ও লাইকি তারকা ইয়াসিন আরাফাত ওরফে অপু ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, উত্তরায় তার অনুসারীরা তিন স্থানীয় তরুণকে ছুরিকাঘাত ও মারধর করে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলেন, কিশোর গ্যাং কালচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা পর্যায়ক্রমে আলাদা আলাদা গ্রুপ তৈরি করে। তাদের ড্রেস কোড থাকে, আলাদা হেয়ার স্টাইল থাকে, তাদের চালচলনও ভিন্ন। তারা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। তারা নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। নানাভাবে তারা অর্থ সংস্থানের চেষ্টা করে। এলাকার কোন ‘বড় ভাই’র সহযোগী শক্তি হিসেবেও তারা কাজ করে। কিশোরদের একত্রিত করে কতিপয় ব্যক্তি বিভিন্ন ধরনের অপরাধে সম্পৃক্ত করছেন। তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিচয়ও আছে। সহজ ও অল্প খরচে কিশোরদের দিয়ে তারা অপরাধ করানোর সুযোগ নিচ্ছে। অস্ত্রবাজি, মাদক ও হত্যাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে তারা কিশোরদের ব্যবহার করে করে। এছাড়া কোন কোন রাজনৈতিক নেতা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে কিশোর গ্যাং তৈরি করছে। এটি হলো কিশোর গ্যাং তৈরির একটি দিক। অন্য আরেকটি দিক হলো- আমাদের দেশে শিশুদের লালনপালন করার ক্ষেত্রে পরিবারগুলো শিক্ষা, চিকিৎসা এবং অন্যান্য বিষয়ে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছে না। নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানরা অপরাধে জড়ায় এমন একটি কথা সমাজে প্রচলিত আছে। এ ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। এখন উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরাও অপরাধে জড়াচ্ছে। সঠিক ও সুষ্ঠু সামাজিকীকরণের বিষয়টি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে কিশোরদের মধ্যে ক্ষোভ-হতাশা তৈরি হচ্ছে। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ দায়িত্ব নেয়ার পর পরই সারাদেশে পুলিশের সব ইউনিটকে কিশোর গ্যাং সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বিশেষ ফাইল তৈরির নির্দেশ দেন। সে মোতাবেক সারাদেশে কিশোর গ্যাং শনাক্তকরণ এবং গ্যাং সদস্যদের গ্রেফতার করতে ধারাবাহিক অভিযান এবং সারাদেশে কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা তৈরির বিষয়টিও অব্যাহত আছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহাঃ শফিকুল ইসলাম অপরাধ পরিস্থিতি সম্পর্কিত মাসিক পর্যালোচনা বৈঠকেরাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন। ডিএমপির অপরাধ বিভাগকে সতকর্তার সঙ্গে বিষয়টি দেখতে বলেছেন তিনি। পাশাপাশি, তিনি পুলিশ সদস্যদের বলেছেন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের চিহ্নিত ও নজরদারিতে রাখতে। ডিএমপি কমিশনার মোহাঃ শফিকুল ইসলাম গ্যাং কর্মকান্ড মোকাবেলায় নগরীর বিভিন্ন সড়কে অস্থায়ী চেকপয়েন্ট বসানোর ওপরও তাগিদ দিয়েছেন।


এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
Developed by BongshaiIT.com
ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ