শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ১২:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

বিদেশ থেকেও অপরাধ বানিজ্যে নরসিংদী জেলা যুবলীগ নেতা মিঠুন সাহা!

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৬ শেয়ার
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০২১

নরসিংদী জেলা যুবলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে বাগিয়ে নেওয়া মিঠুন সাহার ফিরিস্তি।

বাংলাদেশ ও ভারতের দুই দেশেরই ভোটার আইডি প্রাপ্ত,আই কার্ড রেশন কার্ডের সুবিধাভোগী দ্বৈত নাগরিক এই মিঠুন সাহা।

জানা যায়,ভারত থেকেও কালো টাকার বিনিময়ে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বাগিয়ে নিয়েছেন নরসিংদী জেলা যুবলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ।কমিটি সাক্ষরিত হবার সময়ই তিনি বিদেশে অবস্থানরত ছিলেন।

আর সেই পদকে পুঁজি করে ভারতের কলকাতা থেকেই বিভিন্ন অবৈধ কায়দায় হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি টাকা।

জানা গেছে, ২০১১ সালে নরসিংদীর সার্কিট হাউজ ও রেল স্টেশন ভাংচুর সেই সাথে ভারতীয় দুতাবাসের গাড়ি পুরানোর মামলা রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। নরসিংদী রাঙ্গামাটির রং রুবেল হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনায় এফ.আই.আর ভুক্ত আসামী মিঠুন সাহা।

নরসিংদী যুবলীগের এক নেতা জানান, দীর্ঘ প্রায় এক দেড় যুগ পর নতুন করে গঠিত হওয়া নরসিংদী জেলা যুবলীগের কমিটিতে পদ-পদবি পাবার আশায় বুক বেঁধেছিল নরসিংদী জেলা যুবলীগের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমী ও ত্যাগী কর্মীরা কিন্তুু জেলার আওয়ামী রাজনীতির গ্রুপিং কোন্দল লবিং আর পদ বানিজ্যের জাতাকলে পড়ে তারা পদ বঞ্চিত হলেও মিথুন সাহার মত অনেকেই আসীন হয়েছেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে।

তিনি আরো জানান, তার আশির্বাদ পুষ্ট না হলে অনেক নেতাকর্মীদেরই পড়তে হচ্ছে বিভিন্ন রোষানলে!হতে হচ্ছে গ্রুপিং ও চরিত্র হননের স্বীকার।কলকাতা থেকে দেশে না ফিরলেও,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইসবুকে বিভিন্ন নামে তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে প্রায় অর্ধশত ফেইক আইডি,গ্রুপ ও পেইজ।

রয়েছে নামে-বেনামে অবৈধ নিউজ পোর্টালও!আর এসবকে পুজি করে সে অনলাইনেই একটা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে, গড়ে তুলেছে অবৈধ সিন্ডিকেট।এই সিন্ডিকেটের বলি হচ্ছে অসংখ্য ত্যাগী নেতাকর্মী। মোটা টাকা চাঁদা না পাঠালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বীকার হতে হচ্ছে চরিত্র হনন আর বিভিন্ন অপবাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গুরু পার্টি ডাকাত দলের সর্দার ছিল তার বাবা লাল সংকর। মিঠুনের দুই ভাই রনেট সনেটের নির্যাতনে অতিষ্ট মধ্য কান্দাপারা বাসি। তারা সকল নেষা দ্রব্য ও চোরাচালানের সাথে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, ১৫ বছর আগে মিঠুন সাহার পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা সংকটময় ছিল। মিথুন সাহার বাবা স্ট্রোক করলে বাগবিতান পূজা কমিটির সভাপতির প্রজিৎ সাহার উদ্যোগে চাদা তুলে তার বাবার চিকিৎসা করা হয়।

নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের এক প্রবীণ নেতা নেতা জানান, নরসিংদী সদর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও তার পরিবারের আশীর্বাদ পুষ্ট হওয়ায় প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর হওয়ায় ভয়ে এই বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হন না অনেক নেতাই।

আর এসব নিয়ে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা আর গুঞ্জন।তৃনমুল নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করে অবৈধ পক্রিয়ায় এভাবে নেতৃত্ব দেওয়া মিথুন সাহাদের থেকে জেলা যুবলীগকে বাঁচাতে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষন চেষ্টা করছেন সংগঠনটির ত্যাগী, পরিশ্রমী পদবঞ্চিত নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, পাঁছটি সংসদীয় আসন, ছয়টি উপজেলা ও ৭১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঢাকার নিকটবর্তী জেলা নরসিংদী। এক সময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল নরসিংদী। বিএনপির ঘাঁটি এখন আওয়ামী লীগের দখলে। ৫ টি আসনের মধ্যে সবকটি আওয়ামী লীগের দখলে। এ ছাড়াও সবকটি পৌরসভার মেয়র পদও আওয়ামী লীগের দখলে।

৫টি আসনের এই জেলার প্রতিটি আসনেই আওয়ামী লীগে রয়েছে গ্রুপিং। গ্রুপিং আর ক্ষমতার লড়াইয়ে অনুপ্রবেশকারীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। অনুপ্রবেশকারীদের কারণে দুর্দিনের কর্মীরা কোনঠাসা হয়েছে এবং ত্যাগী কর্মীরা অভিমান করে দূরে থাকায় আওয়ামী লীগ এ জেলায় সাংগঠনিকভাবে তেমন শক্তিশালী হয়নি। সবচে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলো।


এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
Developed by BongshaiIT.com
ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ