শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:২৩ অপরাহ্ন

আ’লীগ জনগণের সংগঠন করোনায় ফের প্রমাণিত

প্রতিবেদকের নাম / ৯৭ শেয়ার
প্রকাশিত : রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ হল জনগণের সংগঠন। করোনা মহামারীর সময় সেটা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মানুষের পাশে আছে, মানুষের পাশেই থাকবে।

জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসটাই আমাদের একমাত্র সম্বল সেটাই আমাদের শক্তি। দলের নেতাকর্মীদের সব সময় জনগণের পাশে থাকারও পরামর্শ দেন তিনি।

তার সরকার করোনাভাইরাস মোকাবেলার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আর ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে বলেই হয়তো এটা সম্ভব হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা শনিবার সকালে গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভার প্রারম্ভিক ভাষণে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সাংগঠনিক শক্তি হচ্ছে সব চেয়ে বড়। তৃণমূল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি দেখা গেছে করোনা মোকাবেলায়। মহামারীতে আওয়ামী লীগ ও সরকার ছাড়া কেউ জনগণের পাশে ছিল না। তিনি বলেন, একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল বলেই মানুষ এ সহযোগিতাটা পেয়েছে। এ জায়গায় অন্য কেউ থাকলে কত মানুষ যে মারা যেত, দুরবস্থা আর দুর্ভোগ পোহাতে হতো তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ মহামারীতে দলের ৫২২ নেতাকর্মী মারা গেছেন। এতবড় আত্মত্যাগ আর কোনো দল কিন্তু করেনি।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা যে স্বাধীনতা এনে দিয়ে গেছেন সেই স্বাধীনতার সুফল যেন প্রত্যেকের দোরগোড়ায় পৌঁছায় সেজন্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ যেন আমরা গড়তে পারি সেটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।

করোনাকালীন বিভিন্ন স্থানে সশরীরে যাওয়া না গেলেও তার সরকারের করে দেয়া ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা নিয়ে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় সম্মেলন হলেও হয়তো করোনার কারণে আমরা কমিটি করতে পারিনি। খোঁজ নিতে কিংবা যেতে পারিনি। কাজেই আমার মনে হয় এখন একটা সময়, কাজগুলো আমরা করতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী বিএনপির করা ঢালাও সমালোচনার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, আমরা অনেকেরই ভাষণ শুনি। অনেকে অনেক কথা বলেন বা যেগুলো আমরা করে ফেলি বা নির্দেশনা দেই বা পদক্ষেপ নেই, তার ওপর আবার অনেককেই উপদেশ দিতেও দেখেছি।

তার সরকারের করে দেয়া স্বাধীন মতপ্রকাশের অপব্যবহার করে অনেকেই পত্র-পত্রিকায় এবং ‘মিডিয়া টকশো’তে সরকারের বিষোদগার করলেও মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

কেউ আবার বিচার করে আওয়ামী লীগ কতটুকু করল, আর কতটুকু করল না। কিন্তু আয়নায় তারা নিজেদের চেহারা দেখে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একদিকে করোনা, তার মধ্যে এলো ঘূর্ণিঝড় (আম্পান) এবং বন্যা, সবমিলিয়ে সারা দেশের মানুষ একটা দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে ছিল।

কিন্তু সে সময় আমাদের দল এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রত্যেক এলাকায়, জেলা-উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে মানুষের পাশে ছিল।

যারা হাত পাততে পারেন না এমন মানুষদের কাছে এসব নেতাকর্মী রিলিফ পৌঁছে দিয়েছেন, চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়া, এমনকি মৃতদেহ সৎকারেও অংশ নিয়েছেন।

এজন্য তিনি দল এবং সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী এবং প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপিসহ প্রত্যেককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

সবাই একযোগে এভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকে তিনি নজিরবিহীন বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ভূমিহীন এবং নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের যাতে সরকার সহায়তা করতে পারে সেজন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মুজিববর্ষে আমাদের ঘোষণা প্রত্যেক গৃহহীনকে আমরা ঘর করে দেব।’

করোনার কারণে বিশ্ব অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়লেও বাংলাদেশে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে তার সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপের উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘৫ লাখ কোটি টাকার উপরে বাজেট দিয়েছি। যেটা একটা কঠিন কাজ ছিল। আমরা বলেছি খরচ করব সীমিত আকারে, যেটুকু প্রয়োজন সেইটুকু। কিন্তু অর্থনীতি গতিশীল রাখার জন্য বাজেট আমরা ঠিক রেখেছি।’

সংকট মোকাবেলায় সর্বস্তরের মানুষের জন্য সরকারের দেয়া প্রণোদনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাচাই-বাছাই করে তালিকা নিয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কৃষক, শ্রমিক, গার্মেন্ট শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষদের কাছে নগদ অর্থ এবং সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি।’ কারণ সে সময় দুর্গত মেহনতি মানুষের নগদ টাকার যেমন দরকার ছিল তেমনি বিভিন্ন সামগ্রী এবং খাদ্যেরও প্রয়োজন ছিল।
শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯-এর শুরুতেই আমি নির্দেশ দিয়েছিলাম খাদ্য উৎপাদন আমাদের ঠিক রাখতে হবে। কারণ করোনার জন্য বিশ্বব্যাপী মন্দা আসবে আর মন্দার সঙ্গে কিন্তু খাদ্যাভাব এবং দুর্ভিক্ষও দেখা দিতে পারে।

কাজেই কৃষক যেন মাঠে থাকে, উৎপাদন করতে পারে এবং বাংলাদেশে যেন সে পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়। আল্লাহর রহমতে সে অবস্থার সৃষ্টি বাংলাদেশে হয়নি।

করোনা মোকাবেলায় জেলা পর্যায় পর্যন্ত হাসপাতালগুলোকে উন্নত করার পাশাপাশি অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুই হাজার চিকিৎসক ও তিন হাজার নার্স এবং টেকনিশিয়ান নিয়োগে তার সরকারের পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় দুর্যোগকালীন যেন তার নির্দেশ বাস্তবায়নে বিলম্ব না হয় সেজন্য সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরেন সরকার প্রধান।

তিনি বলেন, ‘অর্থ (মন্ত্রণালয়), জনপ্রশান থেকে শুরু করে যাদের যাদের দরকার তাদের একই টেবিলে বসিয়ে একসঙ্গে সিদ্ধান্ত দিয়ে, একসঙ্গে ফাইল করে অন দ্য স্পট সই করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতর নিয়ে অনেকে অনেক কথা বললেও একটা কথা স্বীকার করতে হবে, তাদের তিনি যখন যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন, তারা সেভাবেই কাজ করেছেন। তারা সেভাবে কাজ করেছেন বলেই আমরা এ করোনাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি।

করোনাকালীন বিভিন্ন দেশে লকডাউনের সময় প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য বিদেশে আর্থিক সাহায্য পাঠানোর পাশাপাশি বিশেষ বিমান পাঠিয়ে বিভিন্ন দেশে থেকে তাদের ফিরিয়ে আনার তথ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখি। তারা তো আমাদের দেশের নাগরিক। কাজেই তাদের ভালো-মন্দ আমাদেরই দেখতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি-জামায়াতের আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যার পুনরায় কঠোর সমালোচনা করেন।

সরকার, তার দল ও সহযোগী সংগঠনগুলো মুজিববর্ষে এক কোটি বৃক্ষরোপণ করবে বলে লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও চলমান এ কর্মসূচিতে এক কোটির উপর বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
Developed by BongshaiIT.com
ব্রেকিং নিউজ
ব্রেকিং নিউজ